যমুনা সেতুর ট্রাফিক জট কাটাতে কাজীরহাট-আরিচা নৌপথে ভিড় জমেছে

যমুনা সেতুর বড় ধরনের যানজট এড়াতে কাজীরহাট-আরিচা নৌপথের ব্যবহার বেড়েছে। নৌপথে যানবাহন ও যাত্রীদের চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যেটি যাত্রীদের জন্য এক বিকল্প পথ হিসেবে কাজ করছে। যানজট থেকে মুক্তি পেতে এটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ যান চলাচল সহজ করতে কাজ করছে।


ঈদের ছুটির পর ঢাকায় ফেরার পথে যমুনা সেতুর আশপাশের মহাসড়কে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়। ফলে অনেকে পাবনার কাজীরহাট ফেরিঘাট ব্যবহার করে ঢাকা যাচ্ছেন। কাজীরহাট-আরিচা নৌপথে যানবাহন নির্বিঘ্নে পারাপার হচ্ছে, কারণ ফেরির সংখ্যা চার থেকে বেড়ে ছয়টি হয়েছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি) এবং বিভিন্ন বাস কাউন্টার থেকে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে যমুনা সেতুর পাশে যানজট শুরু হয় এবং শুক্রবার ও শনিবার তা আরও তীব্র হয়। এই যানজটের কারণে পাবনা ও বেড়াসহ বিভিন্ন বাস কাউন্টারে ঢাকাগামী বাসের সংকট দেখা দেয়। তাই অনেক বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ি যমুনা সেতুর যানজট এড়িয়ে কাজীরহাট-আরিচা নৌপথে ফেরি ব্যবহার করছে। রোববার দুপুর পর্যন্ত কাজীরহাট ফেরিঘাটে যানবাহনের চাপ লক্ষ্য করা গেছে।

কাজীরহাট ফেরিঘাট কর্তৃপক্ষ জানায়, ঈদ উপলক্ষে চারটি ফেরির সঙ্গে দুটি রো-রো ফেরি যোগ করা হয়েছে, ফলে মোট ছয়টি ফেরি এখন কাজ করছে। এই ফেরিগুলো হচ্ছে: রো-রো ফেরি শাহ আলী ও বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান, এবং সেমি রো-রো ফেরি বাইগার, গৌরী, চিত্রা ও ধানসিঁড়ি। এর ফলে যানবাহন পারাপারে বেশ সুবিধা হচ্ছে এবং ফেরিঘাটে অপেক্ষার সময়ও কমে এসেছে।

ঢাকামুখী আলহামরা পরিবহনের যাত্রী আবু হানিফ জানান, ফেরিতে ওঠা-নামায় প্রায় আড়াই ঘণ্টা সময় লেগেছে। আরিচা থেকে ঢাকা পর্যন্ত যানজট কম থাকায় তিনি দ্রুত পৌঁছাতে পেরেছেন, যদিও যমুনা সেতুর পাশে আটকে থাকা অন্যান্যদের তুলনায় তাঁর যাত্রা অনেক সহজ ছিল।

বিআইডব্লিউটিসির কাজীরহাট ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক ফয়সাল আহমেদ জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পায়, বিশেষ করে শনিবার চরম হয়। ওই দিন ফেরিঘাট দিয়ে মোট ১০১টি বাস, ৪০১টি ছোট গাড়ি এবং ৮০টি ট্রাক পারাপার করা হয়েছে। রোববার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১৫টি বাস, ৪২টি ছোট গাড়ি, ১৬টি ট্রাক এবং ২০০টি মোটরসাইকেল পারাপার হয়েছে।

বেড়া-ঢাকা রুটে চলাচলকারী আলহামরা পরিবহনের বেড়া শাখার ব্যবস্থাপক বরকত আলী বলেন, যমুনা সেতুর যানজটের কারণে তাদের কয়েকটি বাস এখনও আটকে রয়েছে। তাই তারা বাসগুলোকে কাজীরহাট ফেরিঘাট দিয়ে ঢাকা পাঠাচ্ছে। এই বিকল্প পথটি যাত্রীদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version