পুরস্কার অনুষ্ঠানে না গিয়ে মনু মিয়ার জানাজায় ছুটে গেলেন খাইরুল বাশার

অভিনেতা খাইরুল বাশার বন্ধুর জানাজায় অংশ নিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার অনুষ্ঠান ছেড়ে দেন। মনু মিয়ার মৃত্যু সংবাদ পেয়ে কোনো কিছু না ভেবে ছুটে যান জানাজায়। তাঁর এই মানবিক সিদ্ধান্ত সামাজিক মাধ্যমে প্রশংসা কুড়ায়। বন্ধুত্ব ও দায়িত্ববোধের নজির স্থাপন করলেন তিনি।


কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার জয়সিদ্ধি ইউনিয়নের আলগাপাড়া গ্রামে নিজের বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন গোরখোদক মনু মিয়া। শনিবার (২৮ জুন) সকাল ১০টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তিনি জীবদ্দশায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার কবর খনন করেছেন এবং একস্থান থেকে অন্যস্থানে যাতায়াতে ঘোড়ার ব্যবহার করতেন।

মনু মিয়ার মৃত্যুর খবর শুনে ঢাকা থেকে ছুটে যান জনপ্রিয় নাট্য অভিনেতা খাইরুল বাশার। তিনি শুধু জানাজায় অংশগ্রহণই করেননি, বরং দাফনের কাজেও সহযোগিতা করেছেন এবং তার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। মনু মিয়ার স্ত্রীকে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে নিজের ফোন নম্বরও দিয়ে যান এই অভিনেতা।

এদিন সন্ধ্যায় রাজধানীর এক অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে খাইরুল বাশারের ‘সেরা নাট্য অভিনেতা’ পুরস্কার পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা উপেক্ষা করে তিনি জানাজায় অংশ নেন এবং সামাজিক মাধ্যমে আবেগঘন বার্তা দিয়ে মনু মিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

ফেসবুকে তিনি লেখেন, “মনু কাকা চলে গেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তিনি সবসময় বলতেন—নিজ গ্রাম থেকেই যেন আল্লাহ তাকে ডাকেন। আল্লাহ তার সেই প্রার্থনা কবুল করেছেন।”

খাইরুল বাশার জানান, মনু মিয়া ছিলেন অত্যন্ত সততা ও নীতিবোধসম্পন্ন একজন মানুষ। হাসপাতাল থেকে ফেরার পর তিনি তাকে দেখা করতে বলেছিলেন, কিন্তু সে ইচ্ছা পূরণ হয়নি বলেও দুঃখ প্রকাশ করেন বাশার। মনু মিয়ার স্বপ্ন ছিল একটি ঘোড়ার, কিন্তু অসুস্থ অবস্থায় থাকা অবস্থায় দুর্বৃত্তরা তার প্রিয় ঘোড়াটিকে হত্যা করে।

এই বর্ষীয়ান কবর খননকারীর প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করে খাইরুল বাশার বলেন, “মনু চাচা জান্নাতুল ফেরদৌসে স্থান পান—এই দোয়া করি।


আগামী মাসেই জুলাই সনদে স্বাক্ষরের আশা: আলী রীয়াজ

রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলী রীয়াজ জানিয়েছেন, আগামী মাসের মধ্যেই বহুল আলোচিত জুলাই সনদে স্বাক্ষর সম্পন্ন হবে। তিনি বলেন, বিষয়টি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো প্রস্তুত। এই স্বাক্ষর রাজনৈতিক অগ্রগতিতে বড় ধাপ হিসেবে বিবেচিত হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।


আবু সাঈদের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষরের প্রত্যাশা থাকলেও তা এখন রাজনৈতিক দলগুলোর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি আলী রীয়াজ। রোববার (২৯ জুন) দ্বিতীয় পর্যায়ের সপ্তম দিনের বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান।

তিনি বলেন, “আমরা পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে আগের অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসেছি। রাজনৈতিক দলগুলোর অনেক প্রস্তাব বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এখন তাদের দিক থেকেও নমনীয়তা দেখানো জরুরি।

আলী রীয়াজ আরও বলেন, “জাতীয় ঐকমত্য কমিশন কোনও দলের প্রতিপক্ষ নয়। আমরা দায়িত্ব পালন করছি—শেষ সিদ্ধান্ত নেবে রাজনৈতিক দলগুলো। সংবিধান সংস্কার যেন জনআকাঙ্ক্ষার বাইরে না হয়, সেটি সাংবিধানিকভাবে নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে বিচার বিভাগ ও অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতাও রক্ষা করতে হবে।”

জুলাই অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমাদের সবার নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে, তবে অভ্যুত্থানের দিন শুধুই বাংলাদেশের পতাকা উড়েছিল। আমরা কেবল দেশ ও জনগণের স্বার্থেই এক হয়েছিলাম। কে নেতৃত্বে বা কে পাশে ছিলেন—সেটি মুখ্য ছিল না। লক্ষ্য ছিল—ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্তি এবং এর পেছনের কাঠামো পরিবর্তন।

তিনি আরও বলেন, “গত সাতদিন ধরে আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নিবিড় আলোচনা করছি। কিছু বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হলেও সার্বিকভাবে আশাব্যঞ্জক চিত্র এখনও অর্জিত হয়নি। আমাদের ভাবতে হবে—শুধু দল বা ব্যক্তির অবস্থানই গুরুত্বপূর্ণ, নাকি জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেবো।”


খাগড়াছড়িতে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

খাগড়াছড়িতে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে সংগঠনটি পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষার্থী অধিকার, ভূমি সমস্যাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে। বক্তারা সরকার ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সম্মেলনে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।


খাগড়াছড়িতে ‘জাতি বৈচিত্র্য ইনস্টিটিউট অধ্যাদেশ ২০২৫’ বাতিলসহ চার দফা দাবিতে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ। শনিবার (২৮ জুন) সকালে খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবে আয়োজিত সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত এই অধ্যাদেশটি বাংলাদেশের সংবিধানের পরিপন্থী এবং এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’ শব্দটি বাদ দিয়ে ‘নৃ-বৈচিত্র্য’ শব্দ চালু করার ষড়যন্ত্র।

বক্তারা বলেন, এই শব্দ পরিবর্তনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার কৌশল তৈরি করা হচ্ছে, যা জাতীয় অখণ্ডতা এবং সংবিধানের ৬(২) অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তারা আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বরাদ্দ প্রদানেও রয়েছে সাম্প্রদায়িক বৈষম্য, যার নিরপেক্ষ তদন্ত ও পুনর্বিন্যাস দাবি করা হয়।

সংগঠনের পক্ষ থেকে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, এই ধরনের একচেটিয়া নীতিনির্ধারণ পার্বত্য অঞ্চলে জাতিগত বিভেদ, অস্থিতিশীলতা ও সাংবিধানিক জটিলতা সৃষ্টি করবে।

সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মজিদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদত হোসেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান, যুগ্ম সম্পাদক সাইদুর রহমান এবং সদর উপজেলা সভাপতি তারিকুল ইসলাম রায়হান।

সম্মেলনে জানানো হয়, গত ২৩ জুন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের এক সভায় উপদেষ্টা মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী ২০১০ সালের ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন’ সংশোধনের প্রস্তাব দেন। একই সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা ‘আদিবাসী’ শব্দের দাবিকে পরিচয়ের জন্য চিহ্নিত করেন, যা বক্তাদের মতে সংবিধানের বিরোধী।


রূপগঞ্জে মাতলামির প্রতিবাদে হামলা, গুলিবিদ্ধ ২ যুবক

রূপগঞ্জে মাতলামির প্রতিবাদ জানানোয় দুই যুবককে গুলি করে গুরুতর আহত করে একদল দুর্বৃত্ত। স্থানীয়রা জানান, হামলাকারীরা ছিল মদ্যপ অবস্থায়। ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং আরও তদন্ত চলছে বলে জানায় পুলিশ।


নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে টঙ্গীরঘাট মুড়াপাড়া এলাকায় ঘটে গেছে গুলির এক ভয়াবহ ঘটনা। শুক্রবার (২৭ জুন) রাত ১১টার দিকে এই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হন ইয়াছিন ও সিপন নামের দুই যুবক। ইয়াছিন মুড়াপাড়া হাউলিপাড়ার বাসিন্দা ইদুল মিয়ার ছেলে এবং সিপন টঙ্গীরঘাট এলাকার আলাউদ্দিনের ছেলে।

রূপগঞ্জ থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, ওই রাতে ইয়াছিন তার স্ত্রীকে নিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে খালাতো বোনের বাসায় যাচ্ছিলেন। পথে স্থানীয় সোহরাব নামের এক যুবক মাদকাসক্ত অবস্থায় তাদের গালাগালি করেন। ইয়াছিন প্রতিবাদ করলে তিনি খালাতো ভাই সিপনকে সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় অহিদুল্লার বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি জানান।

এ সময় উত্তেজিত সোহরাব হঠাৎ করে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালান। এতে ইয়াছিনের মাথায় এবং সিপনের পায়ে গুলি লাগে। আহতদের প্রথমে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। পরে সিপনকে ঢাকা মেডিকেলে এবং ইয়াছিনকে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা উদ্ধার করেছে এবং ঘটনাটি ঘিরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করে আদালতে পাঠিয়েছে।


২০১৮ সালের মামলা ঘিরে অপহরণ নাটক, মূলহোতা যুবদল নেতা

২০১৮ সালের ধর্ষণ-হত্যা মামলা প্রত্যাহার না করায় বাদীপক্ষের ব্যবসায়ী চাচা রাশেদুল ইসলাম রাশেদকে অপহরণ করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে যুবদল নেতা রাসেল আহমেদসহ একটি চক্র। ঘটনাটি জানাজানি হলে অভিযান চালিয়ে ৬ জনকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।


নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পূর্বাচলে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণের অভিযোগে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের দাবি, ২০১৮ সালে দায়ের করা একটি ধর্ষণ ও হত্যামামলা তুলে নিতে দীর্ঘদিন ধরে চাপ দিয়ে আসছিল একটি প্রভাবশালী চক্র। মামলাটি তুলে না নেওয়ায়, গত শুক্রবার (২৭ জুন) দুপুরে পূর্বাচলের ১৩ নম্বর সেক্টর থেকে ব্যবসায়ী মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদকে জোরপূর্বক অপহরণ করা হয়।

অপহরণের পর তার পরিবারের কাছে মুক্তিপণ হিসেবে ৭০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, কথিত যুবদল নেতা রাসেল আহমেদের নেতৃত্বে ৮-১০ জনের একটি দল তার অফিসে গিয়ে তাকে তুলে নেয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রাশেদের চাচাতো ভাইয়ের মেয়ে সূর্বনাকে অপহরণ, ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে মামলা চলমান রয়েছে।

পরিবার বিষয়টি পূর্বাচল সেনা ক্যাম্পে জানালে অপহরণকারীরা চাপে পড়ে যায়। তারা রাশেদকে আওয়ামী লীগ কর্মী দাবি করে রূপগঞ্জ থানায় সোপর্দ করার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ দুই পক্ষকেই হেফাজতে নেয়।

রূপগঞ্জ থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত রাসেল ও তার সহযোগী শান্ত, রনি, শিপলু, সাব্বির এবং আরও একজনকে আটক করা হয়েছে। অপহৃত রাশেদকেও উদ্ধার করা হয়েছে।

এএসপি মেহেদী ইসলাম জানান, রাশেদকে আওয়ামী লীগ কর্মী বলা হলেও, এ ধরনের রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রমাণ এখনো মেলেনি। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।


ঢাকাগামী শান্তি পরিবহণের বাস খাদে, আহত অন্তত ৯

ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা শান্তি পরিবহণের একটি যাত্রীবাহী বাস গভীর খাদে পড়ে যায়, এতে অন্তত ৯ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার কারণ ও আহতদের অবস্থা নিয়ে তদন্ত চলছে।


খাগড়াছড়ির রামগড়ে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা, শান্তি পরিবহণ খাদে, আহত ৯
খাগড়াছড়ির রামগড়-জালিয়াপাড়া সড়কের মাহবুবনগর এলাকায় শান্তি পরিবহণের একটি যাত্রীবাহী বাস গভীর খাদে পড়ে গেছে। মঙ্গলবার (২৪ জুন) সকাল ৫টা ৩০ মিনিটের দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে অন্তত ৯ জন যাত্রী আহত হন, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বাসটি অতিরিক্ত গতিতে চালানো হচ্ছিল বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। তাদের দাবি, রাত ১২টার দিকে রওনা হয়ে চালক পুরো পথেই বেপরোয়া ছিলেন। এমনকি মুন্সিগঞ্জ এলাকায় একটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষও হয়। যাত্রীরা বারবার সতর্ক করার পরও চালক কর্ণপাত করেননি। দুর্ঘটনার সময় চালক ঘুমিয়ে পড়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আহতরা হলেন—নজরুল ইসলাম, তানিয়া, হাজেরা বেগম, জাহিদা আক্তার, রেজওয়ান, খোরশেদ আলম, মো. ইব্রাহিম, হেলপার রমজান আলী এবং সুপারভাইজার আজাদ।

রামগড় থানার ওসি মো. মঈন উদ্দীন জানান, “খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। গুরুতর আহত দুজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। চালক পলাতক থাকলেও বাসটি জব্দ করা হয়েছে এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


জাতীয় স্টেডিয়াম পুরোপুরি ব্যবহারের দাবি জানিয়েছে বাফুফে

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) জাতীয় স্টেডিয়াম সম্পূর্ণরূপে নিজেদের ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ চেয়েছে। তারা চায়, স্টেডিয়ামটি শুধুমাত্র ফুটবল কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হোক। এ নিয়ে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে। ক্রীড়াঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।


চট্টগ্রামের এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের মতো ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামও শুধুমাত্র নিজেদের ব্যবহারের জন্য সরকারের কাছে চেয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সংস্থাটির সহ-সভাপতি নাসের শাহরিয়ার জাহেদী।

তিনি জানান, বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনা থাকলেও, ঢাকার কেন্দ্রীয় সুবিধা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে জাতীয় স্টেডিয়ামই তাদের প্রধান পছন্দ। এটি যেন ‘হোম অব ফুটবল’ হিসেবে ব্যবহার করা যায়— এমনটাই প্রত্যাশা করছে বাফুফে।

বাফুফের এই প্রস্তাবের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে সরকারও। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিব জানান, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার তত্ত্বাবধানে বিষয়টির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

তবে স্টেডিয়ামের অবকাঠামো নিয়ে কিছু মতবিরোধ রয়েছে। মাঠের পাশে অ্যাথলেটিক্স ট্র্যাক থাকলেও, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিব আমিনুল ইসলাম মনে করেন এতে সমস্যা নেই। তিনি জানান, অনেক আন্তর্জাতিক ফুটবল মাঠেই এমন ট্র্যাক থাকে এবং ফিফার নিয়মেও এতে বাধা নেই।

তিনি আরও বলেন, অতীতে জাতীয় স্টেডিয়াম ছিল আবাহনী ও মোহামেডানের হোম ভেন্যু। ভবিষ্যতেও প্রিমিয়ার লিগের দলগুলো চাইলে এই সুযোগ পেতে পারে।


ইরানের বিমানবন্দরে একযোগে হামলার দাবি ইসরায়েলের

ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা ইরানের ছয়টি বিমানবন্দরে সফলভাবে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার উদ্দেশ্য ছিল সামরিক অবকাঠামো দুর্বল করা। হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। ইরান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়নি। আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কায়।


ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের পশ্চিম, পূর্ব এবং মধ্যাঞ্চলের অন্তত ছয়টি বিমানবন্দরে একযোগে বিমান হামলা চালিয়েছে। এক্স প্ল্যাটফর্মে (সাবেক টুইটার) তাদের হিব্রু ভাষার সরকারি অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত বিবৃতিতে এ দাবি করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দূরনিয়ন্ত্রিত ড্রোন ব্যবহার করে ইরানের ১৫টি যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার ধ্বংস করা হয়েছে। হামলায় লক্ষ্যবস্তু হওয়া বিমানবন্দরের মধ্যে রয়েছে তেহরানের মেহরাবাদ, মাশহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ডেজফুল বিমানঘাঁটি।

ইসরায়েলি বাহিনী আরও জানায়, এই অভিযানে রানওয়ে, আন্ডারগ্রাউন্ড বাংকার, জ্বালানি পরিবহনকারী একটি রিফুয়েলিং প্লেন এবং এফ-১৪, এফ-৫ ও এএইচ-১ মডেলের সামরিক বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এই অভিযানের মাধ্যমে ইরানের বিমান শক্তিকে দুর্বল করা এবং বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের সক্ষমতা হ্রাস করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য বলে জানায় তারা।

তবে এই হামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইরানি সরকার বা সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য আসেনি।


Exit mobile version