খাগড়াছড়িতে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

খাগড়াছড়িতে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে সংগঠনটি পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষার্থী অধিকার, ভূমি সমস্যাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে। বক্তারা সরকার ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সম্মেলনে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।


খাগড়াছড়িতে ‘জাতি বৈচিত্র্য ইনস্টিটিউট অধ্যাদেশ ২০২৫’ বাতিলসহ চার দফা দাবিতে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ। শনিবার (২৮ জুন) সকালে খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবে আয়োজিত সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত এই অধ্যাদেশটি বাংলাদেশের সংবিধানের পরিপন্থী এবং এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’ শব্দটি বাদ দিয়ে ‘নৃ-বৈচিত্র্য’ শব্দ চালু করার ষড়যন্ত্র।

বক্তারা বলেন, এই শব্দ পরিবর্তনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার কৌশল তৈরি করা হচ্ছে, যা জাতীয় অখণ্ডতা এবং সংবিধানের ৬(২) অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তারা আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বরাদ্দ প্রদানেও রয়েছে সাম্প্রদায়িক বৈষম্য, যার নিরপেক্ষ তদন্ত ও পুনর্বিন্যাস দাবি করা হয়।

সংগঠনের পক্ষ থেকে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, এই ধরনের একচেটিয়া নীতিনির্ধারণ পার্বত্য অঞ্চলে জাতিগত বিভেদ, অস্থিতিশীলতা ও সাংবিধানিক জটিলতা সৃষ্টি করবে।

সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মজিদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদত হোসেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান, যুগ্ম সম্পাদক সাইদুর রহমান এবং সদর উপজেলা সভাপতি তারিকুল ইসলাম রায়হান।

সম্মেলনে জানানো হয়, গত ২৩ জুন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের এক সভায় উপদেষ্টা মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী ২০১০ সালের ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন’ সংশোধনের প্রস্তাব দেন। একই সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা ‘আদিবাসী’ শব্দের দাবিকে পরিচয়ের জন্য চিহ্নিত করেন, যা বক্তাদের মতে সংবিধানের বিরোধী।


One thought on “খাগড়াছড়িতে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version