২০১৮ সালের মামলা ঘিরে অপহরণ নাটক, মূলহোতা যুবদল নেতা

২০১৮ সালের ধর্ষণ-হত্যা মামলা প্রত্যাহার না করায় বাদীপক্ষের ব্যবসায়ী চাচা রাশেদুল ইসলাম রাশেদকে অপহরণ করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে যুবদল নেতা রাসেল আহমেদসহ একটি চক্র। ঘটনাটি জানাজানি হলে অভিযান চালিয়ে ৬ জনকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।


নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পূর্বাচলে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণের অভিযোগে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের দাবি, ২০১৮ সালে দায়ের করা একটি ধর্ষণ ও হত্যামামলা তুলে নিতে দীর্ঘদিন ধরে চাপ দিয়ে আসছিল একটি প্রভাবশালী চক্র। মামলাটি তুলে না নেওয়ায়, গত শুক্রবার (২৭ জুন) দুপুরে পূর্বাচলের ১৩ নম্বর সেক্টর থেকে ব্যবসায়ী মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদকে জোরপূর্বক অপহরণ করা হয়।

অপহরণের পর তার পরিবারের কাছে মুক্তিপণ হিসেবে ৭০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, কথিত যুবদল নেতা রাসেল আহমেদের নেতৃত্বে ৮-১০ জনের একটি দল তার অফিসে গিয়ে তাকে তুলে নেয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রাশেদের চাচাতো ভাইয়ের মেয়ে সূর্বনাকে অপহরণ, ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে মামলা চলমান রয়েছে।

পরিবার বিষয়টি পূর্বাচল সেনা ক্যাম্পে জানালে অপহরণকারীরা চাপে পড়ে যায়। তারা রাশেদকে আওয়ামী লীগ কর্মী দাবি করে রূপগঞ্জ থানায় সোপর্দ করার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ দুই পক্ষকেই হেফাজতে নেয়।

রূপগঞ্জ থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত রাসেল ও তার সহযোগী শান্ত, রনি, শিপলু, সাব্বির এবং আরও একজনকে আটক করা হয়েছে। অপহৃত রাশেদকেও উদ্ধার করা হয়েছে।

এএসপি মেহেদী ইসলাম জানান, রাশেদকে আওয়ামী লীগ কর্মী বলা হলেও, এ ধরনের রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রমাণ এখনো মেলেনি। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version