মিমিক্রির মাধ্যমে নতুন তারকাখ্যাতি পেলেন জেরিন

সোশ্যাল মিডিয়ায় মিমিক্রির মাধ্যমে আলোচনায় আয়শা আক্তার জেরিন। তাঁর অভিনয়শৈলী ও কণ্ঠস্বর নকলের দক্ষতায় মুগ্ধ হচ্ছেন নেটিজেনরা। প্রতিটি ভিডিওতেই ছড়াচ্ছে হাসি, মজার ছলে তৈরি করছেন অনুরাগী দর্শক। তরুণ সমাজে জেরিন এখন একটি পরিচিত ও অনুপ্রেরণাদায়ী নাম।


কণ্ঠে যাঁর শিল্প, মনের শক্তিতে যাঁর পথচলা – আয়শা আক্তার জেরিন সেই অনন্য নাম

সবুজ ক্যাপ আর এপ্রোন পরে যিনি রোগীর সেবায় নিবেদিত, তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায়ও তুমুল পরিচিত—তাঁর মিমিক্রি প্রতিভায় মুগ্ধ হাজারো মানুষ। মানিকগঞ্জ নার্সিং কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী আয়শা আক্তার জেরিন, একদিকে যেমন একজন দায়িত্ববান নার্সিং শিক্ষার্থী, অন্যদিকে তিনি ভয়েস ও মিমিক্রির এক উদীয়মান মুখ।

শিনচ্যান, ডোরেমন, ইকরি, মিনা, হাতোরি—এমনকি বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজি ভাষার ত্রিশটিরও বেশি কার্টুন চরিত্রের কণ্ঠ নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারেন জেরিন। শুধুমাত্র কার্টুন নয়, ভয়েস ওভার দিয়েছেন বিভিন্ন ডকুমেন্টারি ও ভিডিও রিপোর্টে, সফলভাবে।

তাঁর এই দক্ষতা একদিনে গড়ে ওঠেনি। শৈশবে জেরিনের কথা স্পষ্ট ছিল না, কেউ বুঝতে পারত না তার ভাষা। এই প্রতিবন্ধকতা একসময় পরিণত হয় কঠিন সংকল্পে—একদিন এই দুর্বলতাকে শক্তিতে রূপ দেবেন। নিজেকে প্রমাণ করেছেন তিনি।

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গার মাস্টার পাড়া থেকে উঠে আসা এই কণ্ঠশিল্পী নিয়মিত নিজে নিজেই অনুশীলন করেছেন, ইউটিউব দেখে শেখার চেষ্টা করেছেন। করোনাকালে ঘরে বসে অনুকরণ করে শিখেছেন ভয়েস মডুলেশন। সেই পথ পেরিয়ে এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয় মিমিক্রিকার হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছেন।

জেরিন বলেন, “কার্টুন দেখতে দেখতে মনে হতো—এই চরিত্রগুলোর কণ্ঠ আমি নিজেই দিতে পারি। সেই ইচ্ছে থেকেই শুরু।

আজ তাঁর সেই কণ্ঠই অনেককে অনুপ্রাণিত করছে। শব্দের ভিতর দিয়ে যে আত্মবিশ্বাস ও সম্ভাবনার গল্প বলা যায়—জেরিন তার প্রমাণ। ভবিষ্যতে তিনি ভয়েস আর্টিস্ট হিসেবে দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও পৌঁছাতে চান।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version