খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানাতে নেতাকর্মীর ভিড়ে থমকে গেলো গুলশান

দীর্ঘদিন পর দেশ ফিরে খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানাতে বনানী ও গুলশান এলাকায় নেতাকর্মীদের ঢল নামে। রাজপথজুড়ে ব্যানার, শ্লোগান ও উচ্ছ্বাসে মুখর ছিল রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো। এতে বনানী-গুলশান সড়কে যান চলাচল একপ্রকার বন্ধ হয়ে পড়ে। বিএনপির নেতাকর্মীদের উপস্থিতি এবং নিরাপত্তাব্যবস্থার কারণে সাধারণ জনসাধারণকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এই দৃশ্য রাজধানীতে এক ধরনের রাজনৈতিক উত্তাপও তৈরি করে।


চার মাস চিকিৎসা শেষে লন্ডন থেকে দেশে ফিরেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আজ সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার পর তাকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দর সড়কে ঢল নামে দলটির নেতাকর্মীদের। দলের নেত্রীকে একনজর দেখতে ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজারো কর্মী-সমর্থক ব্যানার, ফেস্টুন, পতাকা আর স্লোগানে মুখর করে তোলে গোটা সড়ক।

নিরাপত্তা ও যানজট পরিস্থিতি বিবেচনায় গুলশানগামী সড়ক বনানী থেকে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় পুলিশ। গুলশান ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. জিয়াউর রহমান জানান, পূর্ব নির্ধারিত নির্দেশনা না থাকলেও জনসমাগমের কারণে যানচলাচল বন্ধ করতে হয়েছে। যানবাহনগুলোকে বিকল্প পথ হিসেবে বনানী ১১ নম্বর সড়ক ব্যবহার করতে বলা হয়।

সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে খালেদা জিয়াকে বহনকারী এয়ার অ্যাম্বুলেন্স অবতরণ করে। এরপর ১১টা নাগাদ তার গাড়িবহর বিমানবন্দর ছাড়ে। তাকে বসে থাকতে দেখা যায় সামনের আসনে। গুলশানের ‘ফিরোজা’ বাসভবনে ফিরিয়ে নিতে নেতাকর্মীদের তৈরি করে রাখা অভ্যর্থনা পথ বেয়ে এগোয় গাড়িটি।

বিমানবন্দরের ভিআইপি টার্মিনালে উপস্থিত ছিলেন দলের শীর্ষস্থানীয় নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমানসহ আরও অনেকে। ‘খালেদা জিয়ার আগমন, শুভেচ্ছার স্বাগতম’, ‘তারেক জিয়া ফিরুক’, ‘ভয় নাই রাজপথ ছাড়ি নাই’ ইত্যাদি স্লোগানে মুখর ছিল পুরো পথ।


[আরোও পড়ুনঃলজ্জাজনক পরিণতি] [ইউটিউবে খবর দেখুন]]

নেত্রীর ফেরাকে ঘিরে যত্রতত্র ভিড়ের কারণে ট্রাফিক স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ, র‌্যাব, সেনাবাহিনী, এপিবিএন ও আনসার সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। সকাল থেকে গুলশান, বনানী ও উত্তরা এলাকার কিছু রাস্তায় যানচলাচলে ভোগান্তি দেখা দেয়। তাই বিমানবন্দরগামী যাত্রীদের পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে রওনা হওয়ার জন্য আগেই অনুরোধ জানায় এয়ারলাইন্সগুলো।

বিএনপির বিভিন্ন ইউনিট ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা ব্যান্ডপার্টি, পিকআপ ও মিনিবাস নিয়ে গান বাজিয়ে খালেদা জিয়ার স্বাগত জানাতে আসে। এমনকি দলটির তরফ থেকে পথনকশা দিয়েও কর্মীদের অবস্থান নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল।

এই দিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গুলশান-বনানী-উত্তরা সড়কে চলাচল সীমিত করতে বলা হয় এবং ভিড় সামাল দিতে ফুটপাতে অবস্থান নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয় দল ও পুলিশের পক্ষ থেকে। এদিকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে চালু রাখা হয় রিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচল।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *