বাংলাদেশে গুমের ঘটনা তদন্তে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা আনতে জাতিসংঘের সহায়তা চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নত করতে সরকারের আন্তরিকতা প্রকাশ পেয়েছে এই আহ্বানে, যা আন্তর্জাতিক মহলেও ইতিবাচক বার্তা দিতে পারে।
বাংলাদেশে সংঘটিত গুমের ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তে জাতিসংঘের যেকোনো সহযোগিতা গ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
সোমবার (১৬ জুন) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাতিসংঘের ‘জবরদস্তি বা স্বেচ্ছানির্ভর গুম’ বিষয়ক কার্যকরী দলের সহ-সভাপতি গ্রাজিনা বারানোস্কা ও সদস্য আনা লোরেনা দেলগাদিয়ো পেরেজের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, “আমি চাই জাতিসংঘ সরাসরি এই অনুসন্ধান প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকুক। এতে কাজটি গ্রহণযোগ্যতা ও আস্থা অর্জন করবে।
জাতিসংঘ প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রশংসা করে বলে, গুম প্রতিরোধ সনদে অনুসমর্থন এবং অনুসন্ধান কমিশন গঠনের মাধ্যমে সরকার ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার পূরণ করেছে। তবে আরও অনেক কিছু করার সুযোগ রয়েছে বলেও মত দেন তারা।
প্রধান উপদেষ্টা জানান, অনুসন্ধান কমিশনের মেয়াদ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া বাধা ও হুমকি সত্ত্বেও এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “আমি চাই গণভবনে একটি ‘ভয়ের জাদুঘর’ স্থাপন করা হোক, যেখানে এসব ঘটনার সাক্ষ্য থাকবে। আপনাদের অংশগ্রহণ চাই।”
তিনি আরও বলেন, “১৩ বছর পর জাতিসংঘের এই প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানাতে পেরে আমরা আনন্দিত। আমরা চাই আপনারা অনুসন্ধান কার্যক্রমে পাশে থাকুন, সাহস ও দিকনির্দেশনা দিন।
জবাবে বারানোস্কা জানান, তারা ২০১৩ সাল থেকেই বাংলাদেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের অনুসন্ধান কমিশন গঠনকে বড় পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, “এটা শুধু সাহসী সিদ্ধান্ত নয়, এটি একটি আন্তর্জাতিক দৃষ্টান্তও বটে।” প্রতিনিধি দল ঢাকার বাইরে গিয়েও রাজনৈতিক ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে জানান।



