বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে মোট খেলাপি ঋণের ৭১ শতাংশই মাত্র ১০টি ব্যাংকে কেন্দ্রীভূত। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্যে এই চিত্র উঠে এসেছে, যা দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় গুরুতর ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ চিত্র ব্যাংক খাতের নীতিমালায় দুর্বলতা ও তদারকির ঘাটতির প্রতিফলন।
দেশের ব্যাংকিং খাত ইতিহাসের অন্যতম দুর্বলতম সময় পার করছে। নানা অনিয়ম, লুটপাট ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ঋণখেলাপি দিন দিন বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছাড়িয়েছে ৪ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ২৪ শতাংশেরও বেশি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই খেলাপির প্রায় ৭১ শতাংশই কেন্দ্রীভূত দেশের শীর্ষ ১০টি ব্যাংকে। সবচেয়ে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে জনতা ব্যাংক, যেখানে এককভাবে খেলাপির পরিমাণ ৭০ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা—যা তাদের ঋণ বিতরণের প্রায় ৭৫ শতাংশ। এরপর রয়েছে ইসলামী ব্যাংক, যার খেলাপি ঋণ ৪৭ হাজার ৬১৮ কোটি টাকা এবং তৃতীয় অবস্থানে থাকা অগ্রণী ব্যাংকের খেলাপি প্রায় ৩০ হাজার কোটি।
খেলাপির তালিকায় রয়েছে আরও কয়েকটি ব্যাংক—ন্যাশনাল ব্যাংক, আইএফআইসি, ইউনিয়ন ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, সোনালী, রূপালী ও এসআইবিএল। বিশ্লেষকদের মতে, গত সরকারের আমলে অনেক অনির্ভরযোগ্য ও অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানকে যাচাই ছাড়াই ঋণ দেওয়া হয়েছিল, যার কারণে এই অবস্থা তৈরি হয়েছে।
পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মাশরুর রিয়াজ বলেন, ব্যাংকিং খাতে অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি এতটাই প্রকট ছিল যে অনেকে ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যাংক দেউলিয়া করে ফেলেছে। তার মতে, বর্তমানে গভর্নেন্স কিছুটা ফিরলেও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ভবিষ্যতেও খেলাপি বাড়তে পারে।
অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের রখতিয়ার আহমেদ বলেন, ঋণ বিতরণের আগে প্রক্রিয়াগত যাচাই যেমন কেওয়াইসি, সিআইবি রিপোর্ট, রেটিং—এসব মানা হয়নি। ফলে একই ভুল বারবার হচ্ছে এবং ব্যাংকগুলো দুরবস্থায় পড়ছে।
বিশ্লেষকদের পরামর্শ, এখন থেকে ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম-কানুন অনুসরণ করতে হবে এবং খেলাপি ঋণ যাতে আর না বাড়ে, তা নিশ্চিত করতে হবে। একইসাথে লুটপাটের শিকার ব্যাংকগুলোর ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।



