“অপেক্ষার দিনপঞ্জি” প্রতীক্ষার অনুভূতিকে ছুঁয়ে যাওয়া এক কাব্যিক বাস্তবতা। প্রতিদিনের যাপনে জমে থাকা আবেগ, আকাঙ্ক্ষা ও অসম্পূর্ণতার মিশেলে এই গল্প হৃদয়ের গভীরে পৌঁছায়। সময়ের স্রোতে এগিয়ে চলা জীবনে প্রতীক্ষার ক্ষণগুলোই হয়ে ওঠে সত্যিকারের উপলব্ধির প্রতিচ্ছবি।
তোমাকে না পেয়ে প্রতিটি দিন নিঃস্ব লাগে
তোমার অনুপস্থিতি যেন বিষাদের রঙ মেখে দেয় আমার চারপাশে।
তুমি কি আমার মতোই ব্যথিত হলে, আমার মতোই নিঃসঙ্গতায় ভুগো?
প্রতিদিন ক্যাম্পাসের প্রতিটি কোণ ঘুরি,
মুখের ভিড়ে খুঁজি সেই মুখ—যেটা শুধু তোমার।
তবু কোথাও তুমি নেই—নতুন মুখের ভেতরেও তুমি অস্পষ্ট।
তুমি কি গাছের ছায়ায় লুকিয়ে থাকো?
দেবদারু কিংবা বকুলের পাতা কি তোমার আত্মগোপনের আড়াল?
কাশফুলের ধারে যাই, তবু তোমাকে দেখি না।
মেইন গেটের সন্ধ্যা ভিড়েও কি তুমি মিশে যাও জনতার ভেতরে?
তুমি কি কৃষ্ণচূড়া রোডের পথচারী নও?
আমি রোজ দাঁড়াই ওখানে—শুধু তোমার এক ঝলক চেয়ে।
তোমার প্রতীক্ষায় আমার ক্যালেন্ডারে বিষণ্নতা জমে।
দিন যায়, সন্ধ্যা নামে, অজস্র মুখ চোখে পড়ে—তবু তুমি না।
তুমি কি বইয়ের পাতায় নিজেকে গুটিয়ে রাখো?
নাকি তুমি উড়ে যাওয়া পানকৌড়ি—চঞ্চল, ধরাছোঁয়ার বাইরে?
তুমি কি নদীর ঢেউ হয়ে এড়িয়ে যাও আমাকে?
না কি গোধূলির বদলে যাওয়া রঙের মাঝে হারিয়ে যাও?
প্রতিদিনই খুঁজি তোমাকে, প্রতিবারই ব্যর্থ হই।
শুধু থেকে যায় তোমার নীরবতার কুয়াশা—ভেসে থাকা শূন্যতায়।



