ঈদ উপলক্ষে এক বিশেষ আয়োজনের অংশ হিসেবে কারাগারে গান পরিবেশন করলেন সংগীতশিল্পী নোবেল। ‘জেল থেকে বলছি’ গানের আবহে তার পরিবেশনা বন্দীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয় অন্যরকম আবেগ ও আনন্দ। এই ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন বন্দীদের মাঝে উৎসবের অনুভূতি এনে দেয় এবং তৈরি করে মানবিক যোগাযোগের এক উজ্জ্বল নজির।
জেল জীবন একদিকে যেমন পরিশুদ্ধির সুযোগ, অন্যদিকে সেটি মানুষের মনোজগতেও আঘাত হানে। কেউ এই সময়টাকে ব্যবহার করে নিজেকে শুদ্ধ করে তোলে, আবার কেউ হয়ে ওঠে আরও কঠিন মানসিকতার। বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনের আলোচিত এবং সমালোচিত এক নাম গায়ক মাইনুল আহসান নোবেল, যিনি বর্তমানে নারী নির্যাতনের অভিযোগে কারাবন্দি। তবে এবার তিনি আলোচনায় এসেছেন এক ভিন্ন উপলক্ষে।
শনিবার (৭ জুন) ঈদুল আজহার দিনে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দিদের জন্য একটি বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই আয়োজনে অংশ নেন নোবেল। মঞ্চে উঠে তিনি গেয়ে শোনান নগর বাউল জেমসের গান সহ নিজের জনপ্রিয় কিছু গান—‘অভিনয়’, ‘ভিগি ভিগি’, ‘সেই তুমি কেন এত অচেনা হয়ে গেলে’। তার গান শুনে বন্দিরা আবেগে ভেসে যান, তৈরি হয় আনন্দঘন এক পরিবেশ।
জেল থেকেই ব্যান্ড গঠনের ব্যতিক্রমী নজিরও রয়েছে বাংলাদেশে। ‘কাকতাল’ নামের একটি ব্যান্ড জেল থেকেই গঠিত হয়, যারা প্রায় দুই-আড়াইশ’ গান কম্পোজ করেছে কারাগারের ভেতর থেকেই। জেমসের ‘জেল থেকে বলছি’ অ্যালবামের মতোই কাকতাল হয়েছে বাস্তব এক প্রতীক।
কারাগারের জীবন কেমন—সে অভিজ্ঞতা কেবল বন্দিরাই জানে। আর ঈদের মতো আনন্দের মুহূর্তে, পরিবারের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একাকী সময় কাটানো হয়তো আরও কষ্টকর। এই কঠিন বাস্তবতায় একটুখানি বিনোদন, একটুখানি ‘আশা’ বন্দিদের মুখে হাসি ফোটাতে পারে।
ঠিক যেমনটা আমরা দেখেছিলাম ১৯৯৪ সালের বিখ্যাত সিনেমা “Shawshank Redemption” এ—জেলখানার কঠোর পরিবেশেও কিছু মুহূর্ত থাকে যা বন্দিদের মনে আশা জাগায়। সিনেমার প্রধান চরিত্র অ্যান্ডির মতো, নোবেলও হয়তো সেই রকমই কিছু মুহূর্ত এনে দিয়েছেন অন্য বন্দিদের জীবনে।
নোবেলের এই অংশগ্রহণ শুধুই গানের আয়োজন নয়, বরং সেটি ছিল আশার আলো দেখানো এক প্রচেষ্টা, যা হয়তো তাকে নিজের জীবন ও ক্যারিয়ার পুনর্গঠনের দিকে নিয়ে যাবে—এই আশা রইল।
এদিকে, গত ১৯ মে রাতে নারী নির্যাতনের অভিযোগে ডেমরা থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিও এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাকে আইনের আওতায় আনা হয়। মামলাটি এখনো তদন্তাধীন রয়েছে।



